অনলাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়! ২৪ ঘন্টার মধ্যে উত্তর পত্র জমা দিলেই হবে

0
Students of calcutta University will take the exam online
কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

হাজার সংবাদ ডেস্ক: ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মিলেছে সুরাহা। অবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তিম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরীক্ষা নিয়ম জারি হয়েছে। করোনা প্যানডেমিকের জন্য প্রথম থেকে এখনো পর্যন্ত যেভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রান হতে হয়েছে এবং তারসাথে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন কলেজ ওয়েবসাইট গুলো তাদের নিজেদের আপডেট বন্ধ করে দিয়েছিল। তাই দিশেহারা হয়েছিল ছাত্র ছাত্রি। তার সাথে তারা জেনেছিল যে পরীক্ষা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে পরীক্ষা আদৌ হবে কি হবে না। সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে মামলা চলেছে বহুদিন। তবে আইনজীবীদের আলাদা আলাদা মত সাপেক্ষ নিয়ে হলপনামা জমা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন রাজ্যের করা আবেদন সুপ্রিমকোর্ট মানতে রাজি নয়।

সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে রায় দিয়েছিল কলেজের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হবে অর্থাৎ ৮০ শতাংশ এবং ২০ শতাংশ মুল্যায়নের ভিত্তিতে ছাত্র ছাত্রীদেরকে পরীক্ষার মূল্যায়ন করা যাবে না। পরীক্ষায় পাস করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অবশ্যই বসতে হবে তা না হলে পাস করা সম্ভব নয়। সেটা নির্দেশ দিয়েছিল ইউজিসির হস্তক্ষেপে থাকা সমস্ত কলেজ গুলোর জন্য। ইউজিসির হলফনামা জমা নেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের শেষ পর্যন্ত এটাই রায় দেওয়া হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্টে রায়ের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আজ জানাই সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে ২০ তারিখের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার বাধ্যতামূলক। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রত্যেকটা কলেজ যেন সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার মূল্যায়ন শেষ করে তবে সেই পথে কলকাতা ইউনিভার্সিটি নিজস্ব মত জানিয়েছে। কলকাতা ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন যে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা হবে অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যমে। যে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট যে অনলাইন অফলাইন এবং শুধুমাত্র অনলাইনে কিংবা অফলাইনে মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া যাবে। তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা এবং দায়বদ্ধতা রাখবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঠিক সেভাবেই সুপ্রিম রায় মান্য করে কলকাতা ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে তারা অনলাইনে এবং অফলাইনে পরীক্ষা নেবে। অনলাইন অফলাইন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ইমেইল কিংবা ওয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া হবে প্রশ্নপত্র এবং ছাত্রছাত্রীরা সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাঠাবে কলেজে। যে ছাত্রছাত্রীরা তা করতে সক্ষম নয় তারা পরের দিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলেজে এসে তাদের হার্ড কপি জমা করবে। অর্থাৎ উত্তরপত্র হোয়াটসঅ্যাপে না জমা দিতে পারলে বা মেইল করতে না পারলে কলেজে গিয়ে জমা করে আসতে হবে উত্তর পত্রের হার্ডকপি।

পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী কলেজ থেকে ধার্য করা পরীক্ষার দিনক্ষণ জানানো হবে ছাত্র-ছাত্রীকে। আর নির্দেশ অনুযায়ী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে পরীক্ষার সম্পূর্ণ করে ফেলতে চায় কলকাতা ইউনিভার্সিটি। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা মূল্যায়ন শেষ করে সেই পরীক্ষার সমস্ত রেজাল্ট যেন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বের করতে সক্ষম হয়। তবে কলকাতা ইউনিভার্সিটি মূল্যায়নে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে কারণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার পর অন্যান্য কলেজের শিক্ষকরা অর্থাৎ অন্যান্য কলেজের প্রিন্সিপাল সবসময় খাতা চেক করত। কিন্তু এবার আর তা হবেনা যে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সেই কলেজের প্রিন্সিপালের খাতা চেক করবে।

পরীক্ষার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে আগে থেকে। দিন ক্ষণ জানানোর পর যেদিন যে পরীক্ষা থাকবে ধরুন যদি আপনার ইতিহাস পরীক্ষা থাকে কিংবা ইংলিশ পরীক্ষা থাকে। তাহলে যেদিন ইংলিশ পরীক্ষা আছে সেদিন যদি বারোটা থেকে আপনার পরীক্ষা থাকে তাহলে তার এক ঘণ্টা আগে ইংলিশের প্রিন্সিপাল আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মেইল আইডিতে পাঠাবে সেই প্রশ্নপত্র। এবং প্রশ্নপত্র পাঠানোর পর সেই প্রশ্নপত্রের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিয়ে পাঠাতে হবে কলেজকে। যদি কেউ অনলাইনে পাঠাতে সক্ষম না হয় তাহলে হার্ডকপি দিতে পারে কলেজে এসে। আর যারা অনলাইনে পাঠাবে তারা হয় স্ক্যান করে কিংবা সেখানে এডিট করে লিখে পাঠাতে পারে উত্তর। তা অবশ্যই নির্ভর করবে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিকাঠামোর উপর। কারণ সবাই নেট পরিসেবা সমান নয় তাই এই চিন্তা-ভাবনা নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও এখনও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় কি চিন্তা-ভাবনা নিয়েছে তা নিয়ে মতৈক্য চলছে। কোনো কথা বলেননি কোন কলেজ। তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করছে।

এই পরিবর্তনের ওপর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদ জানিয়েছে যে এই নিয়ম সঠিক নয়। ছাত্র-ছাত্রীর মূল্যায়নের অপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে এই নিয়ম। কারণ বাড়িতে বসে অনলাইনে পরীক্ষা দিলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের অনেক সমস্যা আসতে পারে। কারণ ছাত্রছাত্রীরা মূল্যায়ন করবে ঠিক কথা কিন্তু তাতে অনেক সমস্যা থাকবে। কারণ অন্তিম বর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সব সময় চেষ্টা করা হয় ভালোভাবে পড়াশুনা করে তারা ভালোভাবে পরীক্ষা দিক। কিন্তু এখানে তা হবে না। অনলাইনে সমস্ত কাজ হলে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খামতি থেকে যাবে। আগে যেখানে ৩ ঘন্তা সময় থাকত পরিক্ষার এখন তা ২৪ ঘণ্টা। তাতে ছাত্র ছাত্রিরা কি শিখবে। তার জন্য অবশ্যই এই নিয়ম কোন মতেই ঠিক নয়। তবে যা জারি করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তা একেবারে সঠিক এবং সেই নিয়মেই চলবে পরীক্ষা তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন