মাদক চক্রে জড়িয়ে রিয়ার ভাই সৌভিক! দিদির নির্দেশে সুশান্তকে মাদক দিয়েছি আমি

0
Rear's brother Souvik has been arrested
গ্রেফতার সৌভিক চক্রবর্তী

হাজার সংবাদ ডেস্ক: দুমাস হয়ে গেছে সুসান্ত সিং নেই আমাদের মধ্যে। মৃত্যুর তদন্তের জন্য প্রথম থেকে মুম্বাই পুলিশের হাতে সমস্ত দায়িত্ব থাকলেও ৫৬ জন কে জেরা করেও কোনো ভাবে কোনো ফল পাওয়া জাইনি। সামনে আসেনি কোন রহস্য। কিন্তু সুসান্ত সিং এর বাবা এফআইআর দায়ের করায় রিয়া চক্রবর্তী নামে তার পর বিহার পুলিশ ঘুরে দাঁড়ালেও তাদের কে ক্ষমতার বসে মুখ বন্ধ করে দেয় মুম্বাই পুলিশ। আর এখন সিবিআই তদন্তের পর বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

আর আজকের তাক লাগিয়ে দিয়েছে এনসিবির তদন্ত। তাদের হাতেই গ্রেফতার সৌভিক চক্রবর্তী। মাদক দ্রবের সাথে জরিয়ে থাকায় গ্রেফতার হয়। এর আগে সিবিআইইয়ের তরফেও এই রকম বার্তা ছিল। মাদক ব্যবসা নিয়েও কথা উঠেছে বহু বার রিয়া চক্রবর্তীর নামে এবং তার পরিবারের নামে। সিবিআই তদন্তের যাওয়ার পর সামনে এসেছে রিয়া চক্রবর্তীর পরিবারের সাথে শুধু রিয়া নয় তার ভাইও জুক্ত ছিল মাদক ব্যবসায়। কিন্তু তা স্পষ্ট নয় তবে এবার রিয়া চক্রবর্তীর ভাই যে তার সাথে যুক্ত তা স্পষ্ট। কারন তা নিজে মুখেই এনসিবির কাছে সিকার করেছে সৌভিক। তাই আজকে রিয়া চক্রবর্তী ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে।

সেই সূত্রে রিয়া চক্রবর্তীর ভাই জানিয়েছে যে দিদি আমাকে বলতো তাই আমি এগুলো করে দিতাম এবং দিদি বলেছিল বলেই আমি সমস্ত মাদকদ্রব্য ডেলিভারি করতাম। দিদির কথাতেই আমি সব কাজ করেছি। যার মাধ্যমে এই সমস্ত কথা স্বীকারোক্তি মেনে নিয়েছে সৌভিক চক্রবর্তী। আর সেই কথা জেনে সৌভিক চক্রবর্তী কে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। সৌভিক জানিয়েছে মাদক আনার পর আমার দিদি এবং সুশান্তের পরিবারের ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা একসাথে বসে সেবন করতেন মাদক। প্রায় সুশান্তের বাড়িতে মাদক ব্যবসায়ীরা আসত রিয়ার কথায়। অর্থাৎ সুশান্ত সিং এর জন্য কফিতে মাদক দ্রব্য মেশানো কথাটা একেবারেই মিথ্যে নয়। যা রিয়ার হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটে উঠে এসেছিল সিবিআইয়ের হাতে।

২০১৯ সালে রিয়া এক মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এ কথা বলেছিল তা জানতে পেরেছিল সিবিআই রিয়ার ফোন ফরেনসিকে পাঠানোর পর। সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এ উঠে এসেছিল এইরকম কথা। ২০১৭ সাল থেকে এ রিয়া চক্রবর্তী মাদক নিতেন এবং তার সাথে ব্যবসা চালাতেন রমরমা। ২০১৯ সালেও তিন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলেছিলেন এবং সেই মাদক ব্যবসায়ীরা চক্রবর্তীর বন্ধু। তিনি নাকি জানিয়েছিলেন ওই মাদকদ্রব্য চা কিংবা কফি কিংবা শরবত এর সঙ্গে মিশিয়ে দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে কাজ হবে। এইরকম চ্যাটের বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। তবে এবার তার প্রমাণ মিলল রিয়ার ভাই সৌভিক চক্রবর্তীর মুখ দিয়ে।

সে নিজেই স্বীকার করেছে সুশান্তকে মাদকদ্রব্য সেবন করাতে বাধ্য করেছিলো দিদি। দিদির অনুমতিতেই আমি এই কাজ করেছি। এতদিন নেটাগরিক তথা মিডিয়ার সামনে রিয়া চক্রবর্তী ছিল সুশান্ত সিং এর সব থেকে বড় শত্রু ছিল রিয়া চক্রবর্তী। এবার শুধুমাত্র সুশান্ত অনুরাগী নয় রিয়া চক্রবর্তীর ভাই নিজেই জানিয়েছে যে সুসান্ত সিং কে মাদকদ্রব্য সেবন করাত রিয়া। অর্থাৎ ভাইয়ের মুখ থেকে বেরিয়েছে সুসান্ত সিং এর মৃত্যুর পেছনে থাকা অনেক বড় একটি সত্য। যেখানে হাজার মিথ্যে দিয়েও কিছু চাপা যায় না। এতদিন দিদির পাশে ছিল প্রত্যেকটা জায়গাতে দেখা গিয়েছে সুসান্ত সিং এর মৃত্যুর পর থেকেই রিয়া চক্রবর্তী কে যতবার ডাকা হয়েছিল আদালতে ততো বারই সৌভিক চক্রবর্তী তাকে নিয়ে গেছে। কিন্তু এবার তার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সত্যি কথা বলেছে শৌভিক চক্রবর্তী।

এনসিবির তরফ থেকে জানানো হয়েছে আজ রাতে রিয়া চক্রবর্তীকে জেরা করা হবে এবং রিয়া চক্রবর্তীর মাদকদ্রব্যের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত তা নিয়ে তদন্ত করবে। এনসিবি তদন্ত করার জন্য আরও একটি ক্লাবে খোঁজ নিয়েছে এবং রিয়া চক্রবর্তীর ভাই যে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল সেই ক্লাবেও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন যে সেখান থেকেই তিনি মাদক দ্রব্যের ব্যবসার সূত্রপাত করেছিলেন। সেখানে কোনো একজন মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীর সাথে যোগ হয়েছিল সৌভিক চক্রবর্তী। এর পরেই তারা বিজনেস বাড়ানোর চিন্তা করে এবং সুশান্তর বাড়িতে প্রায় দিনই মাদকদ্রব্যের বেশ কিছু ক্লায়েন্ট আসত এবং তাদের সাথে মাদকদ্রব্য সেবন করতেন রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু সুসান্ত সিং এর মৃত্যুর পর থেকে তার মৃত্যুর তদন্ত করা হচ্ছে তার জন্য এনসিবি সেটাকে সিবিআইয়ের হাতে দিয়েছে এবং সিবিআই সেই বিষয়ে আবার তদন্ত চালাবে বলে জানিয়েছে। সৌভিক চক্রবর্তী কে 9 সেপ্টেম্বর আদালতে পেশ করা হবে। এছাড়াও এনসিবি জানিয়েছে যে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে রিয়া চক্রবর্তী কেও গ্রেপ্তার করতে হতে পারে। কারণ তার আগে দরকার রিয়া চক্রবর্তীর বয়ান নেওয়া আর সেই পথেই এগোচ্ছে এনসিবি তথা সিবিআই।

এদিকে রিয়া চক্রবর্তী সিবিআইকে জানিয়েছিল যে সুসান্ত সিং এর দিদি নাকি সুসান্ত সিং কে কড়া ডোজের ওষুধ খাওয়াতো। আর তার জন্যই নাকি বেশি সময় ঘুমোত সুশান্ত কিন্তু এখন তা মিথ্যা প্রমাণ হবে। কারণ সুসান্ত সিং কে মাদকদ্রব্য দিত রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু তার দিদির নামে জানিয়েছিলেন যে তার দিদি তাকে খারাপ দিকে নামিয়েছে আর সেই নিয়ে আমার সাথে ঝামেলা হতো সুসান্ত সিং এর। কারণ আমি সুশান্ত কে বারণ করতাম সে সমস্ত ওষুধ খেতে যা তার দিদি দিচ্ছে। সেই সমস্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেওয়া হয় না। তাই সুসান্ত সিং এর দিদি নাকি কোন এক বন্ধুর সাথে কথা বলে প্রেসক্রিপশন লিখে নিয়েছিল এবং সেই ছবি পাঠিয়ে দোকান থেকে মেডিসিন কিনত কিন্তু সুশান্ত সিং।

এখন বেরিয়েছে অন্য একটি ঘটনা। রিয়া চক্রবর্তীর ভাই নিজে স্বীকার করেছে সেই কথা। সেই প্রসঙ্গে সুসান্ত সিং এর দিদি শ্বেতা সিং কৃতি বলেছেন যে থ্যাংক ইউ গড এবং এনসিবির কাজ কে তিনি সমর্থন করছেন। এনসিবি সঠিক পথে চলছেন সেই রকম ভাবেই যেন সামনে আসে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ। ধন্যবাদ জানিয়েছে এনসিবিকে। বহুদিন ধরে যে ঘটনার কোন রকম ভাবে তদন্ত হচ্ছিল না সেই ঘটনার তদন্ত এবার প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার বোধহয় মৃত্যু রহস্য সামনে চলে আসবে। আসল দোষীরা প্রথম থেকে মিথ্যার পর মিথ্যা সাজিয়ে এমনভাবে দোষীরা পালিয়ে বেরিয়েছে এবার হয়তো তার হবেনা। সিবিআই আর তার সাথে এনসিবির তরফ থেকে যেভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে তাতে দুমাস আগে মৃত অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত হয়তো খুব শিগ্রই সামনে আসবে। দোষীদের নাম আসবে সবার সামনে।

মুম্বাই পুলিশ ৫৬ জনকে একইভাবে তদন্ত করে ও যেখানে সারাদিন ধরে তদন্ত সেখান থেকে কোন উপায় নেই কিন্তু এবং ইডির হাতে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক নতুন নতুন নয়া তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং নিউজ চ্যানেল তাদের সামনে উঠে আসা বেশকিছু ভিডিও স্ক্রিপ্ট সামনে নিয়ে এসে আরো তদন্তে সাহায্য করেছে। বিভিন্ন করনে যাদের যা কিছু সন্দেহ ছিল সেই সমস্ত ভিডিও ভাইরাল করেছে অনুরাগীরা। আর এভাবেই হয়তো প্রমাণ মিলবে এবার সুসান্ত সিং এর মৃত্যু রহস্যের। আজকে গ্রেপ্তার হয়েছে রিয়া চক্রবর্তীর ভাই সৌভিক চক্রবর্তী। আর কালকের হয়তো আর এক নতুন খবর অপেক্ষা করছে সুশান্ত অনুরাগীদের জন্য।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন