ভবিষ্যৎকে ইতি রেখে হারিয়ে গেলেন আরও এক বলিউড অভিনেতা, সুশান্ত সিং রাজপুত

0
passed away susnt sing rajput
উজ্জ্বল জীবনে দাড়ি টেনে চলে গেলেন অগচারে, বলিউডের সুশান্ত সিং রাজপুর

হাজার সংবাদ ডেস্ক: মর্মাহত গোটা দেশ। আরও এক বলিউড অভিনেতার অকাল প্রয়াণ ঘটল সুশান্ত সিং রাজপুতের। অনেকে ভাবছে মানসিক চাপ বাদ্ধ করেছে আত্মহত্যা করতে। আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী টুইটারে শোক পালন করেছেন। আর্টিস্ট মহলের সবাই শকাহত। তাদের উক্তি কেন তিনি আত্মঘাতী হলেন তার বিচার পাওয়া দরকার। বি হয়েছিল তাঁর? এই অকাল মৃত্যুর পেছনে কে দায়ী তা সামনে আসা দরকার।

আভিসেখ বন্দ্যপাধ্যায় বলেছে এতো সুন্দর উজ্জ্বল অভনেতার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা। বহু সিনেমা তার অভিনয় মন ছুয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকেই যথেষ্ট শোকাহত ও মর্মাহতত হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এত তাড়াতাড়ি সুশান্ত রাজপুত এর মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। তিনি টুইটারে সমবেদনা জানিয়েছে তার পরিবার ও তার বন্ধুবান্ধবদের। বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয় কষ্টের সাথে শোকাহত হয়ে জানান যে তার মৃত্যুতে তিনি বলেন যে “সোনালি ভবিষ্যৎ ছেড়ে টাকে কেন বিদায় নিতে হলো তা নিয়ে তদন্ত করা হবে। খুঁজে বের করা উচিত কেন চলে যেতে হল সবাই কে ছেড়ে অকালে।” অভিনেত্রী তনুশ্রী জানিয়েছেন যে আমরা করোনা ভাইরাসের জন্য নিজেদের সতর্ক রাখতে এতো ব্যস্ত যে আমাদের পাসে এতো মানুষ তাঁরা কেমন আছে কিংবা মানসিক দিক থেকে যে ভেঙে আছে তা বোঝাও যাই না। নিজেদের সুস্থতার জন্য পাশের মানুষ গুলোর খোঁজ নিতেই ভুলেই যাই। আমি আশা করতে পারিনি যে এতো তাড়াতাড়ি সুশান্ত সিং কে হারিয়ে ফেলবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।” অনেকে আবার জানিয়েছে যে তাঁর অনেক দূর যাওয়ার ছিল, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তিনি চলে গেলেন অগচরে।

৩৪ বছর বয়সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে নিজের বাস গৃহের বারান্দায়। খুব অল্প দিনের যাত্রায় প্রত্যেক মানুষের মনে দাগ দিয়ে গেছে তাঁর ক্রিয়াকলাপ।বিহারের পাটনায় ১৯৮৬ সালে ২১ জানুয়ারি জন্ম হয় সুসান্ত সিং রাজপুতের। বেশ কয়েকদিন আগেই জন্মদিন গিয়েছে তাঁর। ছোটো বেলায় পাটনায় সেন্ট ক্যারেন্স হাই স্কুলে ভালো রেজাল্ট নিয়ে, দিল্লির হংসরাজ মডেল স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। পরে দিল্লি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় সপ্তম স্থান নিয়েছে। এতো মেধাবি ছাত্র হয়তো হতে পারত উচ্চ পদস্থ চাকুরে। কিন্তু তিনি তা না করে বেছে নিলেন সোনালি পর্দা।

হাজার পড়াশোনার পরও তাঁর মনে চেপে বসেছিল নাচ ও অভিনয়। ২০০৫ সালে নজিরা বব্বরে থিয়েটারে যোগ দেন। এরপর সুশান্ত সিং বিজ্ঞাপনের পর্দায় সেই সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল চকোলেটের বিজ্ঞাপন। থিয়েটার থেকেই তার ছোটপর্দার হাতে খড়ি। ২০০৮ সালে “কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল” ছবিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সুশান্ত সিং। এরপর তিনি “কাই পো চে” ছবিতে মুখ্য অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন। তারপর দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ছবিতে ব্যোমকেশ বক্সী নতুন রূপ দিয়ে তিনি “ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী” নামে এই ছবিতেও মানুষের মন জয় করেছেন। তারপরও সব থেকে নাম অর্জন করেছিল ধোনির বায়োপিকে, “এম এস ধোনি” মুভিতে। সেই ছবিতে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তার অভিনয় যেখানে ধনী রূপে তাকে সবাই দেখতে পেয়ে, যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছিল দর্শকদের থেকে। সেই ছবিতে ধোনির বায়োপিকে এত সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তা দর্শকদের কাছে তার অভিনয় মন কেড়েছিল। হেলিকপ্টার থেকেও তাকে সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ধোনির বায়োপিকে তিনি সেই ছবির সময় প্রচুর দিন মাঠে কাটিয়েছে শুধু ধোনির ব্যাটিং স্টাইল তৈরি করার জন্য। ধনী কে হুবহু নকল করতে গিয়ে তিনি এত সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলবে তার বায়োপিক ভাবতে পারেনি তিনি নিজেও।

এই ছবির সাফল্যের পর তিনি অনেকটাই পরিবর্তন করেছিলেন নিজেকে। তারপর অঙ্কিতার সাথে সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। যদিও অঙ্কিতা জানিয়েছিল তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে যে তিনি যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছেন এই সম্পর্কের জন্য। এবং তিনি পুরোপুরি দায়ী করেছিলেন সুশান্ত সিং কে। এছাড়াও তিনি আরো অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন যেমন রাবতা, ছীছর, কেদারনাথ নামক আরও অন্যান্য ছবিতেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

বেশকয়েক দিন ধরে একটা মুভি নিয়ে সাফল্য পাছিলনা। খুব ভেঙে পরেছিলেন তিনি। এর আগেও তাঁর মা মারা যাওয়ায় খুব ভেঙে পরেছিলেন তিনি। কিন্তু তা সামলে ওঠার পরও তিনি নতুন করে আর নিজেকে সময় দিলেন না। হারিয়ে গেলেন তাড়াতাড়ি। তাঁর উজ্জ্বল জীবন মানুষকে প্রেরনা দিত। হতে পারত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর জীবন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন