দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পর এবার বেলুড় মঠের খোলার নির্দেশ, কবে থেকে খুলবে মঠ

0
opening rule of ramkrishna mission
বেলুর মঠের নতুন নিয়ম

হাজার সংবাদ ডেস্ক: লকডাউনের জেরে গত আড়াই থেকে তিন মাস বন্ধ ছিল মন্দির প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও গির্জা ইত্যাদি। বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নিয়ে শনি বার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। করোনার জন্য ২৫ শে মার্চ থেকে বন্ধ থাকা বেলুরমঠ খুব শীঘ্রই খুলে দিচ্ছে। দক্ষিণেশ্বর মন্দির খোলার নির্দেশে সুত্রের জানা গিয়েছিল যে খুব শীঘ্রই বেলুড় মঠ মন্দির খোলা হবে।

কবে খোলা হবে সে নিয়ে কমিটি জানিয়েছে আগামী ১৫ই জুন থেকে ফের ভক্তও দর্শনার্থীদের জন্য খুলবে বেলুড় মঠ। তবে এখানেই শেষ নয় মঠ খোলা হচ্ছে ঠিকই তার পেছনে অনেক বিধি-নিষেধ রেখে সেই মঠ খোলা হবে। দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা করেছে মঠ কমিটি বৃন্দ।

বেলুড় মঠ সূত্রের খবর অনুযায়ী এবার থেকে প্রতিদিন ৯ থেকে ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে সকালে এবং বিকেল বেলা ৪ থেকে ৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী ১২ পর্যন্ত খোলা থাকতো এবং তারপর দর্শনার্থীরা প্রসাদ খেয়ে গেটের বাইরে বেরোতে। এখন আর এই নিয়ম নয়।

সংক্রমণে পুর নিয়ম কানুন পরিবর্তন হয়ে, দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বেশ কিছু বিধিনিষেধ প্রবেশপথে প্রায় ৪০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে যে সকল দর্শনার্থী মন্দিরে প্রবেশ করবে তারা আগে ওই ছাওনিতে বসে কিছুখন জিরিয়ে নিয়ে তারপর মন্দিরে প্রবেশের জন্য এগোবে। ছাউনি দেওয়ার কারণে তারা জানিয়েছে রোদেতাতে মানুষের দেহের তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যাবে। তাই সেখানে জিড়িয়ে নিয়ে যখন তাদের তাপমাত্রা সাধারন অবস্থায় ফিরবে, তখন তারা এগিয়ে আসবে মন্দির প্রবেশ করার আগে থার্মাল চেকআপের জন্য। রোদে থেকে এসে যদি কেউ সরাসরি থার্মাল টেস্টিং করায় তাহলে তা শরীরের তাপমাত্রা বোঝা যাবে না এবং তখন যদি তার তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি নিচে থাকে তাহলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে কিন্তু যদি তা না থাকে ৯৯ ডিগ্রীর বেশি হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাই সেখানে বেশ কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

শুধু এখানেই শেষ নয় মন্দির চত্বরে তাপমাত্রা পরীক্ষা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ব্যবস্থা রয়েছে একটি যন্ত্র রয়েছে যাতে পা দিয়ে চাপ দিলে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে পারবে। জীবাণুমুক্ত করে দর্শনার্থীরা ঢুকতে পারবে মন্দির চত্বরে সাথে থাকবে মাক্স। মাক্স না থাকলে লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া যাবেনা দর্শনার্থীদের। স্বামী জ্ঞানব্রতনন্দ জী জানিয়েছেন মূল প্রবেশপথ থেকে জুত ঘর পর্যন্ত ২৫ জনের বেশি দর্শনার্থীকে ধুকতে দেওয়া যাবে না। আবার সেখান থেকে দশজন করে যাবে মন্দিরের দিকে। মন্দিরে উঠার সময় সেখানেও সিঁড়ির কাছে রাখা হয়েছে সাবান এবং জলের ব্যবস্থা। হাত পরিষ্কার করে তারপরে ঢুকতে পারবে মন্দিরে। আপাতত মন্দিরে ঢুকে শুধু হাত জোড় করে প্রণাম করতে পারবে। দর্শনার্থী সেখানে বসে কিংবা ষষ্টাঙ্গে প্রণাম করা চলবে না। তার সাথে বন্ধ থাকবে মঠের প্রেসিডেন্সি মহারাজের প্রণাম এবং দীক্ষাদান। এর পাশাপাশি বন্ধ থাকবে প্রসাদ বিতরণ, আরতি দেখা এবং গঙ্গা স্নান। তার সাথে বয়স্কদের জন্য ব্যাটারি চালিত গাড়ী পরিষেবা দেবে না মঠ কর্তৃপক্ষ। আপাতত স্বামীজীর ঘর পুরানো মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ থাকলেও সারদা মায়ের মন্দির ও স্বামীজীর সমাধি মন্দির দর্শন করা যাবে।

মূল প্রবেশপথ দিয়ে অর্থাৎ জিটি রোডে যে প্রবেশ পথ সেখান দিয়ে ঢোকার পর লঞ্চঘাটের পথ দিয়ে বেরোবে দর্শনার্থীরা। এত বিধি-নিষেধের পরও কতটা সংক্রমণ এড়াতে পারবে মঠের কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। যদিও যথাযথ নিয়ম মেনে চলবে বলে তাদের দাবি।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন