লকডাউনে স্বর্ণালী সুযোগ মিলল, লোকাল বিস্কুট কোম্পানি

0
cookies company
স্বর্ণালী সুযোগ লোকাল বিস্কুট কোম্পানি

হাজার সাংবাদ ডেস্ক: মার্চ মাস থেকে লকডাউনের বাজারে স্থানীয় বিস্কুট প্রস্তুতকারীরা যথেষ্ট নাম কিনেছে মানুষের কাছে। নামি নামি কম্পানি গুলি লকডাউনের জন্য ঠিকঠাক পরিমাণ কুকি সাপ্লাই করতে না পারায়, অন্য কোম্পানিগুলির ওপর ভরসা করতে হয়েছে মানুষের। স্থানীয় বেশকিছু কম্পানি তাদেরও প্যাকেট মাধ্যমে বিস্কুট চালু থাকায়। এই দুর্দিনে মানুষক বিচার না করে এবং বেগতিক দেখে মানুষ ভরসা করেছে কিছু স্থানীয় বিস্কুট কোম্পানির ওপর শুধু।

১৯৩৮ সালে এক পরিচিত কোম্পানির নাম আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। সেই বিস্কুট কোম্পানির লাভ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। যদিও এই ছোটবেলা থেকে শুনে আসা এই Parle-G চাহিদা বাজারে সব সময় থাকে কিন্তু এই লকডাউনের চলতি বছরের হিসেব অনুযায়ী প্রায় 80 বছরেও এইরকম স্বর্ণালী সময় আসেনি Parle কোম্পানির। এই পরিচিত ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টসের আরো একজন শীর্ষকর্তা বলেছেন দেশের বাজারে আমাদের এই বিস্কুট সামগ্রীর প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ Parle-G র অরধিকার। এখন দেশে মোট বিস্কুটের বাজারে প্রায় ৩২ শতাংশ পারলে কোম্পানির দখলে।অন্যান্য কোম্পানীর সাথে সাথে পারলেরও যথেষ্ট নাম বেড়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী ঠিক এরকমই আশঙ্কা করছে সব বিস্কুট প্রস্তুতকারীরা। এই সাধারন স্থানীয় বিস্কুট প্রস্তুতকারীদের সংস্থাগুলোও নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে এই লকডাউন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং বিনোদনে, টিভি, রেডিওতে বিজ্ঞাপন দিয়েও যারা ক্রেতা পায়নি, তারা লকডাউনে নতুন ক্রেতা পেয়েছে। বিস্কুটের প্রতিযোগিতাযর বাজারে অন্য বিস্কুটের ঘাটতি থাকায়, ক্রেতাদের কাছে এই বিস্কুট পৌঁছে দিয়েছে এবং ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার নতুন সুযোগ পেয়েছে তারা।

সোনা বিস্কুট লিমিটেডের ডিরেক্টর জানিয়েছেন লকডাউনের সময় বিস্কুটের মত অতি প্রয়োজনীয় একটা খাদ্যপণ্যের বিপুল চাহিদা বেড়েছে। এই স্থানীয় ব্র্যান্ড গুলি তাদের সামনে সোনালী স্বপ্নের দিশা পেয়েছে। কুড়ি শতাংশ চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় ব্যান্ড গুলির। তাতে তাদের অবস্থান অনেক বেশি মজবুত করে তুলতে পেরেছে এই কয়েক মাসে। তবে তা কতটা স্থিতিশীল থাকবে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত তারা।

বাজারে দোকানগুলোতেও নামিদামি কোম্পানি বিস্কুট ঘাটতি পড়তে, দোকানে প্রিয় ব্র্যান্ডের কেক বিস্কুট বেকারি না পাওয়ায় স্থানীয় সংস্থার প্রোডাক্ট কিনেছেন মানুষ। সেখান থেকে স্থানীয় সংস্থাগুলির ওপর ভরসা করতে শিখেছে বলে দাবি তাদেরআবার ব্রিটানিয়া বিস্কুট সংস্থার মালিকপক্ষ জানিয়েছে। এপ্রিল এবং মে মাস থেকে বেশি পরিমাণে উৎপাদন করছে তারা অন্য সময়ের তুলনায় কুড়ি শতাংশ বেশি উৎপাদন করছে তারা। তাতে বাজারের ঘাটতি অনেকটাই কমবে। তারপরেও কি মানুষ ভরসা করবে সেই স্থানীয় সংস্থা গুলির উপর? তাদের দাবি যদি আবার সমস্ত কর্মচারী লাগিয়ে পুনরায় বেশি উৎপাদন করে তাহলে আবারও বাজারে তাদের নামই এগিয়ে থাকবে তখন সুযোগ পাবেনা স্থানীয় সংস্থাগুলি।

কলকাতার বিস্কুট প্রস্তুতকারি সংস্থা রাজা বিস্কুটের কর্মদক্ষ সঞ্জয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন আগে বিজ্ঞাপন দিয়েও যে জায়গা গুলিতে মানুষ ঢুকতে পারছিলোনা। সেই জায়গাগুলিতে এখন অনায়াসে এই বিস্কুট বিক্রি হচ্ছে । অর্থাৎ রাজা বিস্কুটের বিক্রি বেড়েছে। ফলে পুনোরাবৃত গ্রাহকও পাছে তারা।

তারমধ্যে আমুল বাটার বিস্কিটের তৈরীর কথা নিয়ে অনেকের মতামত যে দামে ও গুনো মানে দুই দিক দিয়েই আমুল বাটার বিস্কিট অনেকটাই ভালো। কিন্তু অন্য বড় সংস্থাগুলি অনেকাংশেই গ্রাম এবং শহরাঞ্চল বাজার ধরতে গিয়ে ছোট প্যাকেটের বিস্কুট তৈরিতে প্রকৃত গুনমান বজায় থাকে না এবং ছোট প্যাকেটের দাম বৃদ্ধিতে বেচাকেনা অনেকটাই কম হয়। যদিও বড় প্যাকেট কেনাই গ্রাহকরা অনেকটাই বেশি আগ্রহী।

এইরকম ভাবে বেশ কিছু ব্যবসাদার জানিয়েছেন বড় বড় সংস্থা গুলি যেমন ব্রিটানিয়া আমুল এছারাও বেশ কয়েকটি সংস্থা এই গত দু’মাসে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন বাড়িয়েছে কাজেই স্থানীয় ব্যান্ড গুলি খুব সহজে বাজার ধরতে পারবে না। বাজারে পরিসেবা না দিতে পাড়ায় সেই জায়গাতে স্থানীয় সংস্থা ঢুকে পড়েছে ঠিকই। কিন্তু বাজারে যখন নামি কম্পানি গুলি আবারো অ্যাভেলেভেল হবে তখন স্থানীয় বিস্কুট কোম্পানি গুলি কতটা এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। সাধারন ভাবে স্থানীয় পণ্য কিনলেও টা কত টা দীর্ঘমেয়াদী হবে তা নিয়ে তারাও চিন্তিত।

লকডাউন এ স্থানীয় বিস্কুট কম্পানি গুলি বিপুল চাহিদা বাড়লেও তা কতটা বাজারে যোগান দিতে পারবে সেটা অনেকটা ভাবনার বিষয় কিন্তু বড় সংস্থাগুলি তারা তাদের উৎপাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে কমে আসবে স্থানীয় বিস্কুট প্রস্তুতকারীর চাহিদা।

তখন কি থাকবে বিশ্বস্ততা স্থানীয় ব্র্যান্ডের প্রতি বিস্কুট গ্রাহকদের? তা নিয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়। আগত দিনে বোঝা যাবে কতটা স্বর্ণালী সুযোগ নিয়ে আসবে সাধারণ কোম্পানিগুলোর কাছে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন