মৃৎশিল্পীদের কপালে চিন্তার চাপ কুমোরটুলিতে!

0
clay artist are skeptical about durga puja in kumortuli
পুজো নিয়ে চিন্তাই মৃৎ শিল্পীরা

হাজার সংবাদ ডেস্ক: কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পীদের কপালে চিন্তার ছাপ। খুঁটি পূজার সময় মন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছিলেন বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে হলেও দুর্গাপূজা হবে। কিন্তু নতুন করে কড়া লকডাউন বন্ধ করে দিল সমস্ত নিয়ম কানুন। তাই এই করোনা পরিস্থিতিতে তারা প্রতিমা গড়ার কাজে হাত দেবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করছে কুমোরটুলির শিল্পীরা।

প্রতিমার অর্ধেকটাই দিতে হবে বায়না করতে এলে, অর্ধেক দাম পেলে তবেই তারা প্রতিমার কাজে হাত দেবে। তাদের দাবি এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আসছে প্রতিমা বায়না দিতে কিন্তু হাজার পাঁচেক টাকা হাতে দিয়েই পরে আসবে বলে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করতে বলছে। কিন্তু মৃৎশিল্পীরা ভাবছে বাজার কাঁচা মালের দাম চড়া তার ওপরেই লকডাউন। তাই তারা ৩০ শতাংশের বেশি টাকা হাতে না পেলে প্রতিমা তৈরীর কাজে হাত দিতে চায় না। এর আগে বাসন্তী পূজো এবং অন্নপূর্ণা পূজার সময় প্রতিমা তৈরি করে একটাও প্রতিমা বিক্রি করতে পারেনি কুমোরটুলির সমস্ত মালিকরা।

তাই তারা বাঙালির সেরা উৎসবে প্রতিমা তৈরিতে গড়িমসি করছে। মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছে পুজো হবে কি হবে না তা নিয়ে ঠাকুর তৈরি করা এবং খাটাখাটুনি করার পর বা শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর পর তাদের মাইনে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না, তাই তারা প্রতিমার কাজ করবে নাকি তা বন্ধ রাখবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাছাড়া এখন শ্রমিক পাওয়াও যথেষ্ট চাপের বিষয়। লকডাউন এর আগে যদিও বেশ কিছু শ্রমিক ছিল কিন্তু যেহেতু এখন আবার কড়া লকডাউন ডাকা হয়েছে তার জন্য শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে গিয়েছে। তাদেরকে এনে কাজে লাগাতে গেলে তা একটু সময় সাপেক্ষ।

এখনও পর্যন্ত অনেক শিল্পীরা বায়না পেয়েছে কিন্তু তারা প্রতিমা গড়ার কাজে হাত দিতে চায় না। তার কারণ অনেক পরিমান টাকা ঢালার পর যদি অন্নপূর্ণা পূজার মতো প্রতিমা বিক্রি না হয় তাহলে অনেকগুলো টাকার ক্ষতি হতে পারে। অনেকে আবার রয়েছে লক্ষাধিক দামের প্রতিমার জন্য দশ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে আসছেন। কুমোরটুলিতে শিল্পীরা বলছেন তারা জানাচ্ছে পরে আবার বেশ কিছু করে টাকা দিয়ে যাবে। কিন্তু এতো কম টাকায় অতো বড় কাজের জন্য উদ্যোগী হচ্ছে না তারা। কারণ বাজারের মূল্য যা তাতে প্রতিমা করায় অনেক খরচ এবং সময় সাপেক্ষ। তারপর যদি পূজা অনিশ্চিত হয়ে যায় এই প্রতিমার খরচ তাদের বাড়ি থেকে দিতে হবে। তাই তারা এই ঝুঁকিতে পা দিচ্ছে না কুমোরটুলি শিল্পীরা।

রথ যাত্রার পরের দিন থেকে আসে বহু অর্ডার কিন্তু এবছর পুজো অনিশ্চিত থাকায় এখনো পর্যন্ত তেমন ভালোভাবে কোন অর্ডার আসছে না। আর তাই কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়নি। অন্যান্য বছর এই সময় যথেষ্ট ব্যবস্ততায় থাকে কুমোরটুলি। কুমোরটুলি সংস্থার রনজিত জানিয়েছেন প্রয়োজন হলে ওভারটাইম কাজ করে ঠিক সময় প্রতিমা করতে পারবে কিন্তু আগে পুজোর নিশ্চয়তা না পেলে মালিকরা যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দ্বারস্থ হবে। তাই আগস্ট মাসে যদি পুজোর কোন নিশ্চয়তা থাকে তারপর জোরকদমে কাজ শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন