পুজোয় থাকছে ১১ দফার গাইডলাইন! পুজো কমিটিকে মানতে হবে এই গাইডলাইন

0
Durga puja committee have to maintain 11 rule
দুর্গা পুজা কমিটি

হাজার সংবাদ ডেস্ক: বাংলায় দূর্গাপূজো নিয়ে আবারও জাঁকজমকপূর্ণ পুজো নিয়ে রায় দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এবারে মানতে হবে বেশ কিছু গাইডলাইন আর তারপরে পুজো করা সম্ভব। তবে বাঙালির সেরা পূজা দুর্গা পুজো তা কোনোভাবেই বাধা মানবে না। পুজো হবে কিন্তু তার জন্যই মানতে হবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এইরকমই নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১১ দফা গাইডলাইন সাজিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যের সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে বাংলার মানুষের জন্য তা জানিয়েছে।

বাংলার মানুষের জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের সুরক্ষা এবং সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে পুজো করতে বলেছেন কিন্তু পুজো কমিটিকে কি কি নিয়ম মানতে হবে তারও একটা নির্দেশ এবং তালিকা করে দিয়েছে পুজো কমিটি গুলির জন্য। সাথে মানতে হবে সাধারণ মানুষকেও কিছু বিধিনিষেধ তবেই এই পুজো সম্ভব। দুপক্ষের সহযোগিতায় সম্ভব হবে দুর্গোৎসব তবে তার জন্যই সমস্ত বিধিনিষেধ এবং গাইডলাইন মানতে হবে সবাইকে তবে এই পুজো সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে সম্পন্ন হবে।

  • প্রথমত এই ১১ দফার গাইডলাইনে কি কি জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কি কি মানতে হবে পুজো কমিটিক
  • প্রত্যেককে মণ্ডপকে স্যানিটাইজড করতে হবে এবং পূজামণ্ডপের আশেপাশের জায়গা গুলি স্যানিটাইজড করতে হবে এছাড়াও সমস্ত দর্শনার্থীদের পড়তে হবে মাক্স আর যদি তারা মাক্স বাই এনি চান্স আনতে ভুলে যায় তাহলে পুজো মণ্ডপ থেকে দেওয়া হবে মাক্স সেরকম ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে প্রত্যেক পূজা কমিটিকে।
  • প্রত্যেক পুজো কমিটিকে জানানো হয়েছে খোলা প্যান্ডেল করতে হবে এবং প্রবেশ করার জন্য আলাদা গেটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাহির হওয়ার জন্য আলাদা গেট থাকবে।
  • রাজ্যের তরফ থেকে নির্দেশ এটাই যে, কোন পুজো কমিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এ বছর প্রত্যেক পূজা মন্ডবে বন্ধ থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
  • পুজো মণ্ডপে ভিড় এড়াতে এবং ভিড় রক্ষা করতে সেই এলাকার প্রশাসনের দায়িত্ব নেবে। পুলিশ প্রশাসন থাকবে সেখানে ভিড় এড়ানোর জন্য।
  • এই বছর যেমন কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না তেমন বিজায়া অনুষ্ঠানেও জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে হবেনা। ভার্চুয়াল বিজয়া অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে প্রত্যেক পূজামণ্ডপ কে। যতটা সম্ভব ছোট করা যায় তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
  • রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পুজো কার্নিভাল এবছর বন্ধ থাকবে। প্রত্যেকে খুব ছোট করে অনুষ্ঠান করে পূজা বিজয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। এ বছর পুজো কার্নিভাল আর হবে না এ বছরের জন্য অন্ততপক্ষে স্থগিত রাখা হচ্ছে পুজো কার্নিভাল।
  • প্রতিটি পূজা মণ্ডপে দর্শনার্থী এবং পুজো কমিটি দের জন্য স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। হঠাৎ করে যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তার ব্যবস্থার জন্য প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে জানানো হয়েছে প্রত্যেক পূজামণ্ডপে যেন স্বেচ্ছাসেবক রাখা হয় এবং জনস্বার্থে দূরত্ব বিধি মেনে যেন সমস্ত পূজার নিয়ম সম্পূর্ণ করা হয়।
  • আরতী, অঞ্জলি এছাড়াও সন্ধিপুজো থেকে শুরু করে যে সমস্ত নিয়ম রয়েছে সেই নিয়ম খুব ছোট ছোট করে এবং ভাগে ভাগে করতে বলা হয়েছে। কোন ভাবে ভিড় জমানো সম্ভব নয়। অঞ্জলিতে এবং সন্ধিপুজো অনেক বেশি ভিড় হয় সাধারণত সেই ভিড় এড়াতে এই নিয়ম করা হচ্ছে।
  • পুরস্কারপ্রাপ্ত মণ্ডপে যে বিচারপতিরা আসে অর্থাৎ অসংখ্য বিচারপতিকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পুজোর মন্ডপে কম সংখ্যক বিচারপতি আসবে পূজামণ্ডপগুলোতে পুরস্কার বিতরণ করতে।
  • সরকারি সহায়তার জন্য প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপ এবারে অনলাইনে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাদের কাজ সারতে পারে এবং আবেদন জানাতে পারে কিন্তু কোথাও কোন ভাবে ভিড় জমান যাবে না। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে ভার্চুয়ালি তারা সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে তার ব্যবস্থা করবে রাজ্য।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮শে সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এইরকমই নির্দেশ দিয়েছে এবং ১১ দফার গাইডলাইন মেনে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে পুজো করতে হবে। তাতে করোনা সংক্রমণ রোধ করা যেমন সম্ভব তার সাথে অনেক বেশি আনন্দ করতে পারবে মানুষ। ঘরে বন্দী হয়ে পড়ে থাকতে হবে না কোন মানুষকে এবং প্রত্যেকটা মানুষ পুজোতে আনন্দ করতে চাই সেই আনন্দ দেবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে এই নিয়ম রাজ্যের সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন