মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্য চাষ!

0
cm instructed to cultivate mangrove forests
নদী উপকুলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য নির্মাণ

হাজার সংবাদ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগে এবার সুন্দরবন এলাকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৫০০ হেক্টর জায়গার উপরে ২৫ কোটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য চাষের কথা ভাবছেন সুন্দরবনে। এই হিসাবে প্রতি হেক্টরে ২০ হাজার ম্যানগ্রোভ লাগানো যায়। তার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টাও নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুন্দরবন এলাকাতে ম্যানগ্রোভ অরণ্য স্থাপন করতে গেলে যে জায়গার প্রয়োজন, সেই জায়গা সংগ্রহ করা যথেষ্ট কঠিন তাই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে অথবা নদীর কাছাকাছি যে সমস্ত সরকারি জমিতে উপযোগী, সে সমস্ত জমি বহুদিন পড়ে রয়েছে সেই সমস্ত জমির উপরে চাষ করা হবে বলে জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কাজ যাতে খুব স্বাভাবিক ভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।

তার কাজ শুরু হয়ে গেছে। প্রথম ধাপে জমি খোঁজার কাজ শুধু চলবে না, তার সাথে কোন জমিতে ম্যানগ্রোভ অরণ্য হবে সেটাও জানতে হবে, তাই মাটি পরীক্ষা হবে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। সেই জমিতে আদৌ ম্যানগ্রোভ হবে কিনা। পৃথিবীতে ১৩৩ রকমের ম্যানগ্রোভ আছে। তার মধ্যে বিশেষত হল সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা প্রভৃতি প্রথম সারির ম্যানগ্রোভ অরণ্য।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা মিলিয়ে মোট ১৬ টি সুন্দরবন অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ অরণ্য লাগানো হবে। তার মধ্যে গোসবা, কুলতলী, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, নামখানা, সন্দেশখালি ও ক্যানিং প্রভৃতি অঞ্চলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বসানোর। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী আবেদন জানিয়েছে যে পরিযায়ী শ্রমিক অথবা ১০০ দিনের কাজের লোক দিয়ে করানো হবে এই কাজ। তাতে বেকারত্ব কিছুটা ঘুচবে বলে মনে করছেন উপরমহল।

যে সমস্ত শ্রমিকদের এতদিন জব কার্ড ছিল, তবে কাজ ছিল না কিন্তু এবার এই উদ্যোগে কাজে লাগবে তারা। সাথে প্রত্যেক অঞ্চল ব্লকের এবং বনদপ্তর সাথে থাকবে এই কাজে। সাধারণত বনোমহোৎসব ১৪ জুলাই থেকে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বীজ বপন করা হবে বলে জানা যাই সুত্রের খবরে। সেই বীজ এগ্রিকালচার একাডেমিতে কৃত্তিম ভাবে তৈরি করা হচ্ছে, কারণ ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সাধারণভাবে তৈরি করতে গেলে একটু সমস্যা। কারণ এটি প্রাকৃতিক একটি গাছ যেটি নোনা জলে এবং নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় তৈরি হয় এই বীজ। তাই প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হওয়া বীজ তৈরি করতে হচ্ছে এখন কৃত্রিম উপায়ে।

নদীর জোয়ারে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বীজ ভেসে আসে এবং জোয়ার ভাটার সময় মিশে যায় চড়া বালিতে সেই দানা। সেখানে আস্তে আস্তে করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য তৈরি হয়। কিন্তু এবার বনদপ্তর থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বীজ তা কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে চিন্তার। কিন্তু আশা করা যায় সেই বীজ প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মতোই হবে।

প্রত্যেকটা অঞ্চলের বনদপ্তর ও বিডিও মিলেই সম্পন্ন হবে এই কাজ তার সাথে সেখানকার সাধারণ মানুষও কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে এবং আরও রয়েছে পঞ্চায়েতের সদস্যরাও। এই কাজে জোর দম চিন্তা ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে বৈঠক। তার জন্য প্রত্যেকটা জমি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পরিত্যক্ত সরকারি জমি খোঁজা হচ্ছে যেখানে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বসানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই যৌথ প্রয়াসে শামিল হয়েছে বহু মানুষ প্রত্যেকটা অঞ্চলের পঞ্চায়েত বিডিও বনদপ্তর থেকে শুরু করে সবাই সাথে রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাই খুব তাড়াতাড়ি এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানানো হচ্ছে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন