বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসবে এবছরও বায়না পাচ্ছে না চন্দন নগরে আলোকসজ্জা! সব গোডাউন প্রায় বন্ধ হতে চলেছে

0
Chandan Nagar traders are not getting orders for corona pandemic
করোনার জন্য এবার পুজ তেও চন্দন নগর ব্যবসায়ীদের মন্দা বাজার

হাজার সংবাদ ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপুজোকে উপলক্ষ করে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করতে প্রতিটি ক্লাব অনেক রকম ভাবে উদ্যোগ নিয়ে থাকে গ্রামের কোন পুজো বা শহর কলকাতাতে। গ্রামের থেকে শহর কলকাতাতে অনেক রকম ভাবে পূজো মন্ডপ কে আকর্ষণ করে তুলতে চায় এই ক্লাব গুলি। শুধু মা প্রতিমা বা মণ্ডপ সাজানো এগুলোতে যেমন আকর্ষণ থাকে তার সঙ্গে সঙ্গে আকর্ষণ করে আলোকসজ্জার অপর। আমরা সবাই জানি এই আলোকসজ্জা চন্দননগর থেকে বেশির ভাগই হয়ে থাকে।

এই আলোকসজ্জা তেও অনেকটাই মন কাড়ে প্রতিটা দর্শনার্থীদের পূজা প্যান্ডেলে। পুজো বাকি আর ৩৯ দিন কিন্তু এখনো পর্যন্ত চন্দননগরে আলো পড়াতে কোন রকম কোন পুজো কমিটি তেমন ভাবে বায়না করে কোন অগ্রিম দিয়ে যায়নি কারণ আগের বছরে পুজো নিয়ে সংশয় থেকেও পুজো হয়েছিল। অনেক কম বাজেটে কম বাজেট থাকলেও মোটামুটিভাবে চন্দননগর আলোক পাড়ায় অনেক পূজামণ্ডপে তাদের এই আলক শয্যার বায়না পেয়েছিল। যে খরচ নিয়ে পুজো কমিটিরা পুজো করতেন তার থেকেও 70 থেকে 80 শতাংশটাকা নিয়ে সেই পুজো করতে হয়েছিল আগের বছর। তবুও তারা আলোকসজ্জা তাদের সাধ্যমতো বায়না করেছিল।

আলোক কর্মীরাও 50 শতাংশের মতো পুঁজি নিয়ে তাদের অল্প পুজিতে তাদের মত করে সাজিয়ে গিয়েছিল পুজো মণ্ডপ। কিন্তু এবারে তা আর হচ্ছে কোথায়। আলোক মালিকরা বলছে তারা প্রতি পুজোতে পনেরো কুড়ি লাখের কাছে পর্যন্ত বায়না পেয়েছে তারা। বড় বড় পুজো কমিটি থেকে। ছোট পুজোতেও পেত দেড় থেকে দুই লাখ টাকার কাছে। আগের বছর সে তুলনায় কম ছিল কিন্তু এবছর আলোক পড়াতে একটুকুও সম্ভাবনা দেখছি না। আগের বছর করণা পরিস্থিতিতে যেটুকুবাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা এই দুর্গাপুজোকে উপলক্ষ করে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করতে প্রতিটি ক্লাব অনেক রকম ভাবে উদ্যোগ নিয়ে থাকে গ্রামের কোন পুজো বা শহর কলকাতাতে।
তারা বলছে এবছর প্রতি পূজা উদ্যোক্তারা পরিস্থিতির উপর নজর রেখে সিদ্ধান্ত নেবে কারণ লকডাউন হয়তো আর নেই কিন্তু সরকারের বিধি নিষেধ গুলো আছে। সেগুলো মেনে পুজো উদ্যোক্তারা পুজো করতে হবে। তাই তারা সেরকমভাবে এখনো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। আলোক ব্যবসায়ীরা বলছে প্রতিবছর যে তুলনায় তাদের কাছে এই পূজা মন্ডপ আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানোর জন্য যেরকম অর্ডার আসতো সে তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ অর্ডার পেয়েছি। বাকি তিন ভাগ উদ্যোক্তারা পরিস্থিতির উপর নজর দিয়ে চিন্তাভাবনা নিচ্ছে।
এ বছরে তো পুজোর বাজেট আরো কমে গেছে গত বছর যেসব পুজোতে অর্ধেক বাজেটে পুজো হয়েছিল। এই রকম পরিস্থিতি হওয়াতে আলোক পাড়ায় ভালো রকম বায়না পাচ্ছেনা। তারা বলছে এরকম চলতে থাকলে আস্তে আস্তে চন্দননগরের আলোকসজ্জার থাকবে না। প্রতিবছর যদি ঠিকমতো অর্ডার পায় তারা নতুন নতুন ভাবে আলোকসজ্জা সাজিয়ে থাকে কিন্তু অর্ডার যদি না পায় তারা কিভাবে আর নতুন করে সাজাবে। পরীস্থিতি যদি এ রকম জটিল হয় আলোকসজ্জায় কোন অন্যরকম নতুন কোন আলোকসজ্জা আর পাওয়া যাবে না। চন্দননগরের অনেক মালিক তারা বলছে বেশি নতুন কিছু আনতে গেলে নতুন করে কাজও চাই সেটা যদি না হয় তাহলে আর কি করা যায় এখন নতুনত্ব তৈরি করার থেকে আমাদের ব্যবসাটাকে বাঁচিয়ে রাখা টা খুব দরকার আমাদের কাছে। এমনকি চন্দননগর নাগরিকদের আলোক পাড়াতে কাজ না আসায় বেশিরভাগই অনেক গোডাউন বন্ধ হয়ে আছে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন