মুম্বাই পুলিশ এতো দিনে যা পারেনি দুদিনেই একের পর এক প্রমান খুঁজে বের করছে বিহার পুলিশ

0
Bihar police have revealed the mystery of Sushant Singh's death
মৃত্যু সাথে জড়িয়ে রয়েছে রিয়া ও তার পরিবার

হাজার সংবাদ ডেস্ক: 14 ই জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুশান্ত সিং রাজপুত। অভিনেতার মৃত্যুর প্রায় 51 দিন পর তার পরিবার থেকে এফআইআর দায়ের করে বিহার পুলিশ স্টেশনে। অভিনেতার বাবা জানিয়েছে যে তার ছেলের মৃত্যুর সাথে জড়িত রয়েছে রিয়া চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন রিয়া আমার ছেলেকে ভালবাসেনি সে আমার ছেলের ধনসম্পত্তির দিকে তাকিয়ে তাকে হাত করে রেখেছিল এবং সেটা আত্মসাৎ করার চেষ্টায় আমার ছেলেকে আত্মহত্যার প্রবঞ্চনা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন শুধু তাই নয় রিয়া চক্রবর্তীর বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্য জড়িত রয়েছে এই মৃত্যু ছকে। প্রথম থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত রিয়া চক্রবর্তী কে নিয়ে সুশান্তের পরিবারসহ অনুরাগীদের রাগ এবং ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল কিন্তু তাও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সঠিক ভাবে। কারণ তথ্য-প্রমাণ কিছু পাওয়া যায়নি বলে। কিন্তু এবার অভিনেতার বাবা নিজে বিহার পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করে রিয়া চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের সকল সদস্যদের নামে।

মঙ্গলবার থেকে শুরু করে আজ বৃহস্পতিবার, আজকের মধ্যেই রিয়া চক্রবর্তী তার সিবিআই তদন্তের দাবি সরিয়ে এনে মুম্বাই পুলিশের কাছে রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। হঠাৎ করে এই মত পরিবর্তন দেখে সুশান্ত পরিবার থেকে যে আইনজীবী ছিলেন তিনি জানিয়েছেন যে মুম্বাই পুলিশের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে রিয়াকে তথ্য পাচার করছে তা না হলে রাতারাতি মধ্যে তা সম্ভব নয়। তাছাড়াও আরো অনেক লুকানো তথ্য বেরিয়ে এসেছে রিয়া চক্রবর্তীর নামে। কারণ রিয়া তাঁর জীবনে থাকায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সুশান্ত, সে কথা বেশ কিছুটা প্রমান দায়ের করেছে সুশান্ত সিং এর প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে। এতো দিন অঙ্কিতা কে ডাকা হইনি প্রেমিকের আত্মহত্যার কোন জবান বন্দি দেওয়ার জন্য তবে এবার অঙ্কিতাকে ডাকা হবে এই কেসের জন্য জবান দিতে।

অঙ্কিতা লোখান্ডে বিহার পুলিশের কাছে জানায় যে আমার কাছে এখনো প্রমাণ রয়েছে সুশান্ত সিংয়ের সাথে হাওয়া বেশ কিছু কথোপকথনের। তখন আমি জানতে পেরেছিলাম সুশান্ত রিয়া চক্রবর্তীর সম্পর্কের সাথে সুখী নয়, যথেষ্ট অশান্তিতে রয়েছেন সুশান্ত। সুশান্ত আমাকে জানিয়েছিল শীঘ্রই সেই সম্পর্ক থেকে সে বেরিয়ে আসতে চাই। যদিও সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সুশান্ত অঙ্কিতার কোনো কথা হয়নি ৩ বছর কিন্তু 2019 এর প্রথমের দিকে “কাই পো চে” ছবি রিলিজের পর অভিনন্দন জানাতে অঙ্কিতা লোখান্ডের সাথে কথা হয়েছিল সুশান্ত সিংয়ের। তারপর “মনিকর্নিকা” ছবির শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিলেন অঙ্কিতাকে, সেই সময়ে বেশ কিছু কথোপকথন হয়েছিল তাদের মধ্যে। তিনি এই কনভারসেশন বিহার পুলিশের কাছে জমা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ রিয়া চক্রবর্তীর নামে FIR দায়ের করলো অভিনেতার বাবা কে কে সিং

সুশান্ত সিং এর মৃত্যুর পর থেকে প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে এখনো পর্যন্ত নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে সুশান্ত সিং কে নিয়ে কিছু পোস্ট করেননি। শুধুমাত্র কয়েকটা ছবি পাঠিয়ে ছিল বেশ কয়েকদিন আগে মোমবাতি জ্বালিয়ে কিংবা যিশুখ্রিস্টের সামনে বসে প্রার্থনা করার বেশ কয়েকটি ছবি। কিন্তু কোনভাবেই প্রেমিকের আত্মহত্যা নিয়ে কোনো কথা লেখেনি। কারণ তিনি নাকি যথেষ্ট জর্জরিত ছিল অভিনেতার মৃত্যুর খবরে। তিনিও মনে মনে বিশ্বাস করেন রিয়া চক্রবর্তীর দায়ী সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যুর জন্য। এমন কিছু অবসাদ থাকতে পারেনা সুশান্ত সিংয়ের, যেখান থেকে সুশান্তকে আত্মহত্যা করতে পারে। তাই তার পরিবারের সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়ে সত্যকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে অঙ্কিতা লোখান্ডে। তার বাবা জানায় যে ছেলের মৃত্যুর পর অঙ্কিতা বার বার ফোন করেছে, কৃতি সানন কথা বলেছে আমাদের সাথে, বাড়ি এসে দেখাও করে গেছে অঙ্কিতা। কিন্তু যার সাথে আমার ছেলের বর্তমানে সম্পর্ক ছিল সে একবারও ফোন করেনি আমাদের কাছে, খোঁজও নেইনি রিয়া।

সুশান্ত সিংয়ের সঙ্গে রিয়া চক্রবর্তীর সম্পর্ক হবার পর থেকে শুরু করে প্রত্যেক মুহূর্তে সুশান্ত সিং কে বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথম থেকে সুশান্ত সিং রিয়ার সাথে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি প্রত্যেকটা মুহূর্তে তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন। প্রথমে যে ফ্ল্যাটে ছিলেন সেখান ভুত প্রেতাত্মার ভয় দেখিয়ে সেই ফ্ল্যাট থেকে বান্দ্রার ফ্ল্যাটে সুশান্ত সিং কে ট্রান্সপোর্ট করায় রিয়া ও তার পরিবার। তারপর সেবা-শুশ্রূষার নামে সুশান্ত সিংয়ের ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েন রিয়া চক্রবর্তী। এই ফ্ল্যাটে আসার পর সেইসময় রিয়া চক্রবর্তী সুশান্তের বাড়ির কাজের লোক সহ তার বন্ধু-বান্ধব এবং অফিসের দু একজন লোককে তাড়িয়ে দেয়। মার্চ মাসের 19 তারিখে তার বাড়ির কাজের লোককেও তাড়িয়ে দেয় রিয়া, তাদের সাথে যথেষ্ট খারাপ ব্যবহার করত রিয়া।

আরও পড়ুনঃ সুশান্ত সিংয়ের বায়োপিক খুব শিগ্রই আসছে! বিস্তারিত জানুন

এছাড়াও সুশান্ত এর দুটি কোম্পানির শেয়ারে রয়েছে রিয়া চক্রবর্তীর এবং রিয়া চক্রবর্তীর ভাইয়ের নাম। জোর করে সুশান্ত সিং কে দিয়ে সেই শেয়ার লিখে নিয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী, দাবি উঠেছে অভিনেতার পরিবারের। 2019 সাল থেকে 17 কোটি টাকা হাতিয়েছে সুশান্ত সিং এর থেকে। অভিনেতার পরিবারের দাবি রিয়া সাথে সম্পর্কে জড়ানোর পর সুশান্ত পরিবর্তন ঘটেছিল। সুশান্তকে আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে দিচ্ছিল না রিয়া আমাদের সাথে কথা বললে মানসিক ভাবে অত্যাচার করতো সুশান্তের ওপর। সুশান্তের বাবা জানায় রিয়ার সাথে সম্পর্ক হবার পর আমাদেরকে ফোন করত অনেক কম এবং আমরা বুঝতে পারছিলাম ও অনেক কষ্টে আছে।

সুশান্ত তার বন্ধুর সাথে এক অর্গানিক ফার্ম খোলার কথা চলছিল তখন রিয়া বাঁধা দেয়। সে কথা মানতে রাজি ছিলোনা সুশান্ত তাই রিয়া এবং তার বোন জানিয়েছিল যে যদি তা করে তাহলে তার মানসিক চিকিৎসার সমস্ত কথা মিডিয়াকে জানাবে এবং পাগল বলে দাবি করবে তারা। প্রতি মুহূর্তে এই নিয়ে ভয় দেখাতো তারা। এই ভয় দেখিয়ে সমস্ত কাজ হাসিল করেছে বলে দাবি করছে তার পরিবার। যে চিকিৎসক সুশান্ত কে চিকিৎসা করতো সেই চিকিৎসকও রিয়ার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। ভুল ওষুধ দিয়ে সুশান্তকে আরো মানসিক অবসাদে ঠেলে দিয়েছে। কারণ সুশান্তের মানসিক অবস্থা কখনোই তেমনটা ছিল না হঠাৎ করে যা ভয়ঙ্কর অবস্থায় পরিণত হবে।

এছাড়াও প্রমাণ স্বরূপ তিনি জানিয়েছেন 2019 এর কোন একটা সময় হাই ডোজের ওষুধ খাইয়ে তার বন্ধু বান্ধব কে জানিয়েছিল যে তার ডেঙ্গি হয়েছে। এই সময় তারা সেই ঘটনার পাশে থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি কারণ তখন কোনো প্রমাণও ছিলনা। আর ভাবতেও পারেনি কয়েকদিনের মধ্যেই ছেলেকে হারাতে হবে এভাবে। অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী শুধু নন তার ফ্যামিলির সাথে প্রত্যেকটা মানুষ জড়িয়ে আছে সুসান্ত সিং এর মৃত্যুর কারণে, তার বাবা-মা এবং ভাইও। তার বাবা-মার কথায় চলতে হতো সুশান্তকে, কখন কার সাথে কথা বলবে কার সাথে কথা বলবে না সেটা নির্বাচন করতো রিয়ার বাবা মা। কোন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হতো না সুশান্তকে।

মুম্বাই পুলিশের হাতে অভিনেতার মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্বে থাকাকালীন বহুবার রিয়া চক্রবর্তীকে জেরা করা হয়েছে কিন্তু সেখান থেকে কোনো ক্লু পায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এবার বিহার পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করার পর বিহার পুলিশ মুম্বাই পুলিশকে না জানিয়ে বেশকিছু প্রমাণের জন্য তারা মুম্বাই আসে। তারা যথাযথ প্রমাণের জন্য তদন্ত চালায়। এই খবর রিয়া চক্রবর্তীর কাছে কিভাবে পাচার হচ্ছে তা নিয়ে বিহার পুলিশ জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ থেকে এমন কেউ আছে যারা রিয়ার হয়ে কাজ করে। আর এই খবর রিয়া কে দিচ্ছে। মুম্বাই পুলিশের হাতে থাকায় যে খবরের কোন সুরাহা মেলেনি সেই খবর এবার একের পর এক ছোট ছোট তদন্ত করে বের করছে বিহার পুলিশ। তাই বারবার মৃত্যুর নতুন মোড় সামনে আসছে। এই মৃত্যু যে স্বাভাবিক আত্মহত্যা নয় তা স্পষ্ট। এবার তা খুঁজে বের করবে বিহার পুলিশ। সুশান্ত পরিবারের দাবি এবার ছেলের মৃত্যুর আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করার সম্ভব হবে।

অতি প্রতিভাবানশীল শিল্পী এইরকম মানসিকভাবে অত্যাচারিত হচ্ছিল তা ভাবা যায় না। যদি সত্যিই প্রমাণ হয় রিয়া চক্রবর্তী এর জন্য দায়ী তাহলে তার অনুরাগী এবং পরিবারের দাবি যথেষ্ট কড়া শাস্তি দেওয়া হোক এই অভিনেত্রীর। যে ভালো মুখোশের আড়ালে খলনায়িকার অভিনয় করে গেছে রিয়েল লাইফে।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন