এই সবজি কে আমরা সবাই অবহেলা করি যা স্বাদে ও পুষ্টিতে অসাধারন! কচুর গুনাগুন

0
benefits of taro leaves
কচু শাকের গুনাগুন

হাজার সংবাদ ডেস্ক: কচু খাওয়ার উপকারিতা জানেন। খুব কম দামি সবজি হিসাবে এটি বাজারে প্রচলিত। কিন্তু এই কছুতে রয়েছে অনেক গুন।

কচু অনেকেরই পরিচিত। গ্রামে কচু যেখানে-সেখানে হয়ে থাকে। পুকুর পাড়ে রাস্তার ধারে দেখা যায়। অনেকে আবার এই কচু চাষ করেও থাকে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে এই কচু খাওয়ার চল থাকলেও বাংলাদেশ কচু খাওয়ার চল প্রচুর বেশি কারণ তারা নানা ধরন ভাবে রান্না করে থাকে। কচু দু’জায়গাতেই হয় বাদাতে হয়ে থাকে আবার পুকুর পাড়ে জলে দেওয়া হয়ে থাকে। অনেক কচু আছে যেটা বনে জন্মায় খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। কারণ এটা বুনো কচু এটা খাবারযোগ্য না। পানি কচু মান কচু ওল কচু দুধ কচু মুখী কচু এই সমস্ত কিছু সব সময় জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রত্যেক মানুষ এইকচু গুলো খেয়ে থাকে। কচু এমন একটা সবজি যার শিকর থেকে ডগা পর্যন্ত সবকিছুই খাওয়া যায়। যেমন কচুর লতি মুল কান্ড ফুল পাতা কোন কিছু ফেলে দেওয়া নয়। কচু আমাদের শরীরে নানাভাবে উপকার এনে থাকে। কচুর মধ্যে নানা ধরনের উপাদান থাকে যেগুলো হলো প্রোটিন ভিটামিন শর্করা ক্যালসিয়াম ফ্যাট তার সঙ্গে মূল উপাদান আয়রন। কচুর মধ্যে আয়রন থাকায় শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রেখে শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে থাকে। খাদ্যশক্তিও থাকে কচু শাকের মধ্যে। তাই জেনে নিন কচু শাক এর বিভিন্ন অংশ কিভাবে কাজ দেয় আমাদের শরীরে।

প্রথমত বলি কচু শাক আমাদের দৃষ্টি শক্তি ঠিক থাকা বা চোখের যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে থাকে কচুর মধ্যে ভিটামিন থাকার কারণে। কচুর কান্ড থাকে প্রচুর পরিমাণে জল যা আমাদের শরীরের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে থাকে। যদি গরমকালে এই কচু শাক রান্না করে খাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তার সঙ্গে সঙ্গে হৃদ রোগের আশঙ্কা কমে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ কম থাকে। নানা ভাবে কাজ করে থাকে কচু শাক যেমন হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিসের মত সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্তশূন্যতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে শরীরকে। শরীরের রক্তের মাত্রা কম থাকে শরীরের স্বাভাবিক ভাবে রক্ত চলাচল করার জন্য নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন। নিয়মিত কচু খাওয়া হলো কোলন ক্যান্সার, স্তন ক্যানসার ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে থাকে। জ্বরের সময় দুধ কচু রান্না করে খেলে খুব তাড়াতাড়ি ভালো কাজ দেয়। কচুপাতা আমরা শাক হিসাবে খেয়ে থাকি।

কচুর লতি
কচুর লতিতে আয়রনের পরিমাণ প্রচুর পরিমাণে থাকার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। কচুর লতি বিশেষ করে কিছু মানুষের উপর বেশি ভালো কাজ দেয় যেমন গর্ভা অবস্থায় থাকাকালীন বা বাচ্চা যে সময়টা বেরে উড়তে থাকে। যারা নিয়মিত খেলাধুলা করে বিশেষ করে খেলোয়াড়রা। কচুর লতি খাওয়া গেলে খুব উপকার। কচুর লতিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে দেহের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে থাকে। তার সঙ্গে চুলের আগা ভাঙ্গা রোধ করে থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে খুব ভালো কাজ দেয় কচুর লতি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কচুর মুকিতেও প্রচুর ভাবে কাজ দেয় শরীরে এটিও একটি পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে নানা ধরনের উপাদান থাকে। যেমন ধরুন কপার জিংক ম্যাগনেসিয়াম ম্যাঙ্গানিজ ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম আয়রন অনেক ধরনের উপাদান যা রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সক্ষম করে।

তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন এর মধ্যে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন এলার্জি এসিডিটির সমস্যা আছে তারা এই কচু শাকে এড়িয়ে চলবেন তাছাড়া অনেকে খেলে গলা চুলকায় সেই সময় একটু তেঁতুল গোলা জল ভিনিগার অথবা লেবুর রস খেলে চুলকানি কম হয়ে যায় এগুলো মাথায় রাখা দরকার।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন