আমফানে বিভিন্ন জেলা বিপর্যস্ত বরং আরও সুস্থ করে তুলেছে পরীকে

0
victoria memorial
ঝড়ে ক্ষতি হইনি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর পরীর

হাজার সাংবাদ ডেস্ক: আমফান বেশ কিছু জেলায় যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতায়। এই ক্ষয়ক্ষতিতে এখনো অনেক মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়েও বাস করে চলেছে কিন্তু তারাও এই ঝড় নিয়ে একই রকম ভাবে দুশ্চিন্তাই ছিল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর কর্তৃপক্ষের। চারিদিকে ধ্বংস লীলা চালালেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর বিখ্যাত পরীর কোন ক্ষতি করতে পারেনি এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়। হওয়ার তীব্র গতিতে বরং পরী অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। জ্যাম হয়ে থাকা বল বেয়ারিংয়ের ব্যবস্থাকে আরও সচল করে তুলেছে তাই পরীর বল বেয়ারিং অনেকটাই নাতুনহয়ে গেছে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর সূত্রের খবর অনুযায়ী।

ঝড়ের পর টেকনিশিয়ান মন্টু বাবু অর্থাৎ স্বাস্থ্য-চিকিৎসা করেন পরীর ডাক্তারবাবু তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন আগের থেকে অনেক বেশি সুস্থ হয়ে উঠেছে পরী। বুহু বছর ধরে তিনি দেখা সোনা করেন। সামান্য সাধারন ঝড়-বৃষ্টিতে পরীক্ষা করা হয় পরীকে। এবারেও অনেক বেশি চিন্তাই ছিল মন্টু বাবু যে এত বড় একটা বিপর্যয়ের পর কি হতে পারে তা নিয়ে যথেষ্ট দুশ্চিন্তায়ও ছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর কর্তৃপক্ষ।

তিনি জানান পরী অনেক সুস্থ আছে এই প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় পরী ঘোরার সুযোগ পেয়েছিল তাতে তার বল বেয়ারিং এর জ্যাম অনেকটাই কেটে গেছে। তিনি আরো জানিয়েছেন নতুন বল বিয়ারিং বক্স লাগানোর সময় ২৪ ঘন্টা ঘূর্ণন প্রক্রিয়া চালু রাখতে হয় যাতে পরবর্তী কালে ঘূর্ণনের সময় কোনো আওয়াজ না হয়। আমফানের ফলে কৃত্তিম উপায় ছাড়া প্রাকৃতিক ভাবে পরি ঘোড়া সুযোগ পেয়েছিল তাই তার বল বেয়ারিং এর জ্যাম কেটে গিয়ে এখন দিব্যি ঘুরছে।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর সেক্রেটারি জয়ন্ত সেনগুপ্ত জানিয়েছেন ওই পরীর নিচে দুটি বড় পাত্র থাকে। একটি পারদ এর পাত্র অন্যটি ৭ থেকে ৮ লিটার গিয়ার তেলের পাত্র। ওই পারদ আর্থিং এর কাজ করে এবং গিয়ার তেল বল বিয়ারিং কে সচল রাখতে সাহায্য করে। বজ্রপাতের সময় পারদ এর পাত্রটি থেকে অনেক সময় পারদ ছিটকে বেরিয়ে যায় তখন সেই পাত্রের পুনরায় পারদ ভরতে হয়। যদিও আমফান ঝড়ের পর ওই পাত্রে আবার পারদ ভরতে হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে অ্যাঙ্গেলটি একটি গম্বুজের উপর বসানো রয়েছে। তার উচ্চতা ৫৬ মিটার এবং পরীটির উচ্চতা ৫.৯ মিটার। ভিক্টোরিয়ার পুরানো নথি খতিয়ে দেখলে, সেখানে লেখা আছে ১৯২১ সালে ৬ টন ওজনের এই পরীকে ভিক্টোরিয়ার মাথায় বসানো হলে হয়েছিল। তখন তার ঘূর্ণনের জন্য হাওয়ার গতিবেগ লাগত ঘন্টায় ১৫ কিলোমিটার পরবর্তী সময় পুরানো হয়ে গেলে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতিবেগ লাগে ঘুরতে কিন্তু এই ঝরে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এঞ্জেল অফ ভিক্টোরিয়ার।

ভিক্টোরিয়া অথরিটি সূত্রের খবর অনুযায়ী এই ঝড় পরীকে ক্ষতি না করলেও এই ঝরে ভিক্টোরিয়ার বাগানে প্রায় ১৪-১৫ টি গাছ উপড়ে পড়েছে। সে কারণে আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন ১০০ টা গাছ লাগানোর চিন্তাভাবনা নিয়েছে ভিক্টোরিয়া সেক্রেটারি জয়ন্ত বাবু। অন্যান্য বছর ৬০-৭০ টা গাছ লাগানো হয় তবে এ বছর সে পরিকল্পনা একটু পরিবর্তন করেছে তারা।

একটি মন্তব্য করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন